রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ১১:০১ অপরাহ্ন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:
চাটগাঁ সময় পত্রিকায় চট্টগ্রাম মহানগর সহ বিভাগের আওতাধীন সকল জেলা, উপজেলা এবং কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে । যোগাযোগ : ০১৯৬৫-৬৫২৭৯৬ ।

বিশ্বে মানবতা ও মানবাধিকার আজ হুমকির মুখে: ইমরান সোহেল

চাটগাঁ সময়: আজ ১০ ডিসেম্বর পূর্ণ হয়েছে জাতিসংঘ সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৭১ বছর। ১৯৪৮ সালের এদিনেই ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে গৃহীত হয় ঘোষণাটি। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমানে তা নজিরবিহীন হুমকির মুখে।

সারা বিশ্বেই মানবতা ও মানবাধিকার আজ হুমকির মুখে। সবখানেই অধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসব, এক অরাজক পরিস্থিতি। স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণের অধিকার হারিয়েছে মানুষ। নেই খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অধিকার। পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে গণহত্যা। নির্বিচারে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে লাখ লাখ নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে।



চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে অন্যায় যুদ্ধ। ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে মানুষ। এককথায়, এক খণ্ড নরককুণ্ড হয়ে উঠেছে পৃথিবী। শুধু ক্ষমতার লোভে বিশ্বজুড়ে ধ্বংসলীলায় মেতেছে বিশ্বের রাজনীতিকরা। একদিকে মানবতার বুলি আওড়াচ্ছে, অন্যদিকে মানুষ হত্যার তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার হরণ করছে ‘মানবতার রক্ষকরা’ই।

দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলো। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা আজ ‘একপ্রস্ত কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়’। ‘চোখের মাথা খেয়ে’ বসে আছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও। সম্প্রতি শ্রীলংকা গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতির এ চিত্র উঠে এসেছে।

মানবতা ও মানবাধিকারের বিচারে বর্তমান বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে দেশে চলছে গণহত্যা আর জাতিগত নিধনযজ্ঞ। মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও সংঘবদ্ধ বৌদ্ধ অধিবাসীদের অভিযান এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া ও ইয়েমেনে ধুঁকছে মানবতা। ক্ষুধা আর দুর্ভিক্ষের কবলে লাখ লাখ নাগরিক।

কেড়ে নেয়া হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ভূমির অধিকার। একই ভাগ্য বরণ করছে ভারতের কাশ্মীরের অধিবাসীরা। সম্প্রতি এ তালিকায় যোগ হয়েছে চীনের উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর নাম। উইঘুরদের জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার পাঁয়তারা করছে বেইজিং। বন্দিশিবিরে বন্দি করা হয়েছে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে।

এক দশকে মধ্যপ্রাচ্যের একটার পর একটা দেশে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অবৈধ যুদ্ধ। এসব এ যুদ্ধে মারা গেছে লাখ লাখ নিরীহ মানুষ। হত্যা, ধ্বংস আর জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছে মানুষ। কিন্তু নির্যাতিত ও নিপীড়িত এসব মানুষকে রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তারাই আজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

জাতিসংঘের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানও আজ ‘দর্শকে পরিণত হয়েছে’। সংঘাত প্রতিরোধে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পষ্টত ব্যর্থ হয়েছে ঐতিহাসিক সনদ ম্যাগনা কার্টা, জাতিসংঘ সনদ ও সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার সব মন্ত্রই। ৭০ বছর ধরে ফিলিস্তিনের অধিকার নিয়ে খেলছে ইসরাইল।



ধর্মের অধিকার, ভূমির অধিকারসহ প্রত্যেকটা অধিকারই কেড়ে নিয়েছে। সর্বাধুনিক অস্ত্র দিয়ে জীবনগুলোও কেড়ে নিচ্ছে। সেই শুরু থেকেই এই অনাচার-অবিচারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত কেউ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো উদ্যোগই নেননি। প্রত্যেক প্রেসিডেন্টই ‘চোখ বন্ধ নীতি’ অবলম্বন করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রুম্যানই প্রথম ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটিকে স্বীকৃতি দেন। ইসরাইলের কাছে নিজেদের আবাস, বাড়িঘর, জীবন-জীবিকা একে একে সব হারালেও ফিলিস্তিনিদের দিকে ফিরে তাকাননি ট্রুম্যান। বিচারের বদলে নৃশংসতাকে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক ।

সংবাদটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন...





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



















© All rights reserved © 2019 Chatga Somoy
Design & Developed BY N Host BD