শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:
চাটগাঁ সময় পত্রিকায় চট্টগ্রাম মহানগর সহ বিভাগের আওতাধীন সকল জেলা, উপজেলা এবং কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে । যোগাযোগ : ০১৯৬৫-৬৫২৭৯৬ ।
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২০৬ জন চকরিয়ায় মহাসড়কে যাত্রীবাহি সৌদিয়া বাসে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১২ যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামের মাসিক সাধারণ সভা সম্পন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই কুতুবদিয়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর যাত্রা শুরু আগামী মার্চ থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ পাবেন গ্রাহকরা চট্টগ্রামে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত ২২৩ জন চট্টগ্রাম ও সীতাকুন্ডে বিএসটিআই অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হযরত সৈয়দ শাহসুফি আবদুল হাকিম শাহ (রা:) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে চান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী গোলাম মোস্তফা







ইসমাঈল হোসেন নয়ন । রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী গোলাম মোস্তফা। বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের পূর্ব খীলমোগল গ্রামে। সত্তরোর্র্ধ্ব এই অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সৈনিকের পরিবারে স্ত্রী ও ১ কন্যা ছাড়া আর কেউ নেই।

উনার বয়স যখন ২৬ তখন তিনি অংশ নিয়েছিলেন বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর ৭-ই মার্চের ভাষণ সরাসরি শুনে উজ্জিবীত হয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গণের সম্মুখ যুদ্ধে। এই যুদ্ধে তিনি ২০ বারেরও অধিক সময় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। অবসর জীবনে যা ভাতা পেয়েছিলেন তা দিয়ে হজব্রত পালন করেছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে সম্পদের খাতায় নিজের ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই তাঁর। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদানে সরকারিভাবে প্রাপ্ত ১২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়েই এখন তাঁর ঔষধ খরচ ও সংসার চলে। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে মৃত্যুর আগে অন্তত একবার স্বচক্ষে দেখে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন রণাঙ্গণের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।



মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকালে তাঁর নিজ বাস ভবনে এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এই ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি।

তিনি জানান, ষাটের দশকে তিনি ব্যবসায় করতেন। একদিন ব্যবসার কাজে চট্টগ্রাম শহরের খাতুনগঞ্জ গিয়ে শুনতে পান ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। শুনেই তিনি হালিশহর ইপিআর হেড অফিসে যোগাযোগ করেন। ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ইপিআর-এ সিপাহী (১৬৬৪৩) পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়ার স্বীকৃতি স্বরূপ দুই বছরের সিনিয়রটি সহ পদোন্নতী পেয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী বিডিআর-এ (বিজিবি) নায়েক, হাবিলদার, নায়েক সুবেদার ও সুবেদার (৩১৮৮) পদে চাকুরী করে ২০০২ সালে অবসর জীবনে পা রাখেন। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়ার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অর্জন করেন রণতারকা, সমরপদক, মুক্তি তারকা, জয় পদক ও সংবিধান পদক সহ মহামূল্যবান ৫টি পদক।



মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ও সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুর কবল থেকে মুক্তিযোদ্ধা হাজী গোলাম মোস্তফার বার বার বেঁচে ফেরার গল্পঃ

১৯৬৭ সালে ইপিআর-এ চাকুরীর সুবাদে সেখানে ২ মাস ট্রেনিং নিয়ে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ক্যাম্পে যোগদান করেন তিনি। ১৯৭১ সালে সেখান থেকে পুনরায় ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে তিনি সহ অন্যান্য ইপিআর সদস্যরা চট্টগ্রাম হালিশহরে ট্রেনিং-এ আসেন। ৭-ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর প্রোগ্রামে রেসকোর্স ময়দানে নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে ৩২ জন ইপিআর সৈনিক পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা। মাঠে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিটি কথা তার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তার সেদিনকার বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়েই তিনি সেদিনই সিদ্ধান্ত নেন স্বাধীকার আন্দোলনের সংগ্রামে তিনিও অংশ নেবেন। ঢাকার পীলখানায় ইপিআর হেডকোয়ার্টারে তিন দিন থেকে ফিরে আসেন রামগড় কোম্পানির অধিনে বাগান বাজার ক্যাম্পে।

২৬ শে মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রামে কি হচ্ছে বুঝতে পারছিলেন তারা। কিছু একটা হচ্ছে সেটা নিশ্চিত বুঝতে পারছেন তিনি। এরমধ্যে উর্ধ্ব মহল থেকে হুকুম এলো ভারত পানে সবাই যেনো এক রাউন্ড করে গুলি বর্ষণ করেন। এতে তিনি নিশ্চিত হলেন স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এদিন রেডিও বার্তায় মেজর জিয়াউর রহমানের বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণাটা শুনেই বাঙ্গালী সুবেদার ইলিয়াছের নেতৃত্বে তিনি সহ ১৮ জন সিপাহী পাক বাহিনীদের মোকাবেলায় ক্যাম্প থেকে চলে আসেন। শুরুতেই এই ১৮ জন সৈনিক করেরহাটের মেজর আলী আকবর পেট্টোল পাম্পের পেছনে পুকুর পাড়ে অবস্থান নেন। সেখানে ১ দিন থাকার পর কুমিরা ডেপেন্সে সুবেদার ইলিয়াছ, সুবেদার মুছা ও ক্যাপ্টেন ভূইয়ার নেতৃত্বে কুমিরায় পর পর দুই দিন পাক বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। এই দুই দিনে রণাঙ্গনে চোখের সামনেই শহীদ হয়েছিলেন তার সহযোদ্ধা তোরাব আলী, মনছুর ও লুৎপর সহ আর বেশ কয়েকজন। ভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন।

এভাবে তিনি কুমিরার বিভিন্ন স্পটে যুদ্ধে অংশ নেওয়া শেষে চলে আসেন রাউজানের রাবার বাগান এলাকায়। সেখানেও সম্মুখ যুদ্ধে তাদের হাতে পরাজয় বরণ করেন পাকিন্তানিরা। পাক বাহিনীর কর্ণেল আজিজ তার পরিবার নিয়ে আত্মসমর্পন করেন। সেখান থেকে রামগড় ইপিআর ক্যাম্প বাঙ্গালি অফিসাররা দখলে নিয়ে সেখান থেকেই চট্টগ্রাম, ফেনি সহ বিভিন্ন এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। এই যুদ্ধে নিজের অনেক সাথীকেই চোখের সামনে শহীদ হতে দেখেছিলেন তিনি। একবার ফেনির শুভপুর ব্রীজ এলাকায় পাকিন্তানিদের গায়েল করতে পজিশনে অবস্থান নেন তিনি সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। সেই সময় ব্রীজটি ধ্বংস করে ওই এলাকাটা পাকিস্তানি কবল থেকে মুক্ত করে নিজেদের আয়ত্বে আনেন।



সেখানে থেকে রামগড় ফিরে আসলে তৎকালীন ছাত্রনেতা ও রাঙ্গুনিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নুরুল আলমের সাথে দেখা হয় তাঁর। তার সাথে দুইদিন তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন। রামগড় বাজার ক্যাম্প থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতে থাকলে একসময় খবর আসে এটি পাক বাহিনীদের টার্গেটে পড়েছে। তাই সেখান থেকে ১নম্বর সেক্টরের অধীনে হরিণা বাজার নতুন ক্যাম্প করা হয়। আসার সময় পাকিস্তানিরা যাতে এই ক্যাম্প ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য ক্যাম্প সহ রামগড় বাজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিণা ক্যাম্প থেকেই এক রাত্রে রামগড় বাজারে অবস্থান নেওয়া পাক বাহিনীদের উপর হামলা করেন তাঁরা। সেদিন রামগড় বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে তারা পাক বাহিনীদের একটি জীপ গ্রেনেড ছুঁডে সৈন্যসহ উড়িয়ে দেন।

এরমধ্যে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মিত্র বাহিনী পাঠানো সহ সহযোগীতার আশ্বাস দেওয়ার খবর আসলে ভারতের বেলুনিয়া হলে বাংলাদেশের পশুরাম স্কুলে আসেন। সেই স্কুলে ক্যাম্প করে সেখান থেকেই আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অপারেশন হলো পাঠাননগর অপারেশন। পাঠাননগর ছিল পাকিস্তানি পাক বাহিনীর একটি শক্ত ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তাদের পরাস্ত করে ক্যাম্পটি মুক্তিবাহিনীদে দখলে আনা হয়। এভাবে ফেনীর ছাগলনাইয়া, মীরসরাই ও সর্বশেষ সীতাকুন্ড থানায় ক্যাম্প করে বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা।

এভাবে দেশকে শক্রমুক্ত করে লাল-সবুজের স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি অন্তত ২০ বার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি। একবার ভারত যাওয়ার পথে দুইদিনের অনাহার ছিলেন তিনি সহ দলের সদস্যরা। দুইদিন পর এক পাহাড়ি লোক তাদের লক্ষীছড়ি পাহাড় এলাকায় ঘরে নিয়ে খাইয়েছিলেন তাদের। এভাবে যুদ্ধকালে অনেকবার অনাহার-অর্ধহারে দিন কেটেছিল তাদের। কতরাত নির্ঘুম কেটেছিল তার কোন হিসাব নেই গোলাম মোস্তফার কাছে। তবে স্বাধীন দেশে নিঃশ্বাস নিতে পেরে তাদের সেই কষ্ট সফল হয়েছে বলে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।



যুদ্ধের সময় তাঁর মা-বাবার সাথে স্মৃতি :

যুদ্ধের সময় ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন খবরটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। একবার রাতে ছেলের খোঁজে পাকিস্তানি বাহিনীরা তার বাড়িও ঘেরাও করেছিল এবং ছেলে বাড়ি এলে সে যেন প্রাণে বাঁচতে চাইলে আত্মসমর্পন করতে বলেছিল। এতে তার বাবা হাজী নুরুল ইসলাম ও মা আয়শা খাতুন খুবই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছেলের শোকে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিলেন তাঁরা। লোকমুখে পিতা-মাতার এই অবস্থা শুনে তাদের দেখতে বাড়ি এসেছিলেন তিনি। ছেলেকে কাছে পেয়েই তারা তাকে বার বার অনুরোধ করেন পাক বাহিনীর হাতে সে যেনো আত্মসমর্পন করেন। কিন্তু দেশকে হানদার মুক্ত করার নেশায় ভিভোর গোলাম মোস্তফা সেদিন মা-বাবাকে শান্তনা দিয়ে স্বাধীন দেশের সংগ্রামে অংশ নেওয়া হাজারো মায়ের সন্তানদের গল্প শুনিয়েছিলেন।

বাড়িতে কয়েকদিন থাকাকালীন সময়ে রাঙ্গুনিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নুরুল আলমের সহযোগিতা নিয়ে নিজ এলাকা থেকেই আরও একদল মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করে ভারতে ফিরে যান। এই দলের মধ্যে পুলিশের সাবেক আইজি খোদাবক্স চৌধুরীও ছিলেন। যাওয়ার সময় ছেলেন জন্য তার মা কিছু টাকা, তিনটা স্বর্ণের আংটি, কিছু গুড় ও চিড়া দিয়েছিলেন এবং ছেলেন জন্য প্রচুর কান্নাকাটি করেছিলেন।



যুদ্ধ পরবর্তী সময় গোলাম মোস্তফার দিনগুলো :

যুদ্ধের পরে ইপিআর-এ অন্যদের মতো তিনিও যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় তাদের সম্মানসূচক চাকুরীতে দুই বছরের সিনিয়রটি প্রদান করা হয় এবং ধাপে ধাপে ৫টি সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০০২ সাল পর্যন্ত চাকুরীতে তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। এরমধ্যে ২০০০ সালের দিকে চৌগাছা থানা, সেরশাহ থানা, কলোরোয়া থানা সহ ভারতের কিছু এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিল। সেই সময় বন্যার্থদের দেখতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসবেন বলে খবর পায়।

এরমধ্যে খুলনার ডিসি, যশোরের ডিসি সহ বড় বড় অফিসাররা তার কোম্পানির হেডকোয়ার্টার বেনাপোলে গিয়ে কিছু ত্রাণ সামগ্রী আসবে জানিয়ে তা তাঁর তত্বাবধানে বন্যার্থদের মাঝে পৌছাতে হবে বলে জানায়। সেই সময় ৩ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী সহ কাস্টম হাউজে বিভিন্ন ব্যক্তির আনা শাড়ি, লুঙ্গি, চাউল সহ বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণের দায়িত্ব ছিল তার উপর। প্রধানমন্ত্রী উক্ত এলাকায় এসে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর তাঁর হয়ে বাকী সামগ্রী আমি বন্যার্থদের মাঝে পৌছে দিয়েছিলাম। সেদিন ভেবেছিলাম তাঁর সাথে কথা বলার কোন সুযোগ হবে, কিন্তু হয়নি।



চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে যা পেনশন পেয়েছিলাম তা দিয়ে হজ্বব্রত পালন করেছিলাম। আমার নিজের সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই। সংসারে স্ত্রী ও ১ কন্যা রয়েছে। কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। মেয়ের জামাই দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনের সাহায্যে ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা আবারও ক্ষমতায় এলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাবদ্ধ হয়েছিলাম। প্রথমে ২ হাজার টাকা করে ভাতা পেলেও এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের ১২ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দিচ্ছে। সেই টাকা দিয়েই আমার খাওয়া-দাওয়া, ঔষধ খরচ সহ যাবতীয় সবকিছু চলছে। তিনি না থাকলে হয়ত পথে পথে ভিক্ষা করে চলতে হতো। জীবনে কোন সম্পদ অর্জন করতে না পারলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তার স্বীয় কন্যার হাত ধরে মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে বাকী জীবন কাটাচ্ছি।

জীবনে আর কোন স্বপ্ন নেই। শুধু একটাই স্বপ্ন, মৃত্যুর আগে যদি অন্তত একবার তার সাথে দেখা করতে পারতাম, তবে জীবনটা স্বার্থক হতো বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেষ করলেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা।

সংবাদটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন...
















Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *
















© All rights reserved © 2019 Chatga Somoy
Design & Developed BY N Host BD